শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মেডিকেল সেন্টারের ল্যাবরেটরিতে ১৩টি আধুনিক চিকিৎসা ও পরীক্ষাগার সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জকসু সূত্রে জানা যায়, নতুন সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার (Bio-Base-4000), বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ (N-1200), হেমাটোলজি অ্যানালাইজার (BC-10), গামা RFID রিডার অ্যাসেম্বলি, ইউরিন অ্যানালাইজার (UAP-505 Plus), হরমোন অ্যানালাইজার (PIMA/PT-1000) ও ESR অ্যানালাইজার (ESR-20)। এছাড়া ৮-হোল সেন্ট্রিফিউজ, ডিজিটাল ইউরিন রোটেটর, রোলার মিক্সচার (TRV-A) এবং ৫-৫০, ১০-১০০ ও ১০০-১০০০ পরিমাপের তিনটি মাইক্রোপিপেটও যুক্ত করা হয়েছে।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানান, মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি এসি স্থাপন, জানালায় রোলার লাগানো, গেট স্থাপন, মেশিন রাখার জন্য টেবিল এবং কিট সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নতুন ল্যাব চালু হলে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে হবে না। মেডিকেল কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নামমাত্র মূল্যে করার ব্যবস্থা থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হবে।
তবে ল্যাব পরিচালনায় বর্তমানে জনবল সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে জকসুর ভিপি বলেন, যন্ত্রগুলো পরিচালনার জন্য মেডিকেল সেন্টারে এখনো টেকনিশিয়ান নেই। সাময়িকভাবে হাসপাতাল থেকে টেকনিশিয়ান এনে আগামী দুই মাস কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতার ব্যয় জকসু বহন করবে। এ সময়ের মধ্যে প্রশাসনের মাধ্যমে স্থায়ী টেকনিশিয়ান নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।
ল্যাব উদ্বোধন প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জকসুর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণে উদ্বোধন পিছিয়েছে। প্রশাসন আগামী সপ্তাহে উদ্বোধনের কথা জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধন না হলে জকসুর পক্ষ থেকে নিজস্ব উদ্যোগে কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবি মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সেন্টারে উন্নত ল্যাব সুবিধার প্রয়োজন ছিল। নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু, বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন ইনফেকশন ও জন্ডিসের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো ল্যাবটি চালু হলে করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন কমবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।
তবে ল্যাবটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পাশাপাশি দক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটির সুফল শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদে পাবেন।