পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার টুংগিবাড়িয়ার কাটাখালী খালে স্লুইজ গেট না থাকায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। তিনটি মৌজার হাজার হাজার একর জমিতে সময়মতো চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত স্লুইজ গেট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় কাটাখালী হাইস্কুলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কৃষকরা জানান, কাটাখালী খালটি ২০১৯ সালে খনন করা হয়। খননের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশে নাম না জানা জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ওপর খালে স্লুইজ গেট না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। ফলে সামান্য বেশি বৃষ্টি হলেই আশপাশের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার একর জমিতে পানি জমেছে। এতে জমি প্রস্তুত, চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় অনেক জমিতে ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
মানববন্ধনে কৃষক মো. সোলেমান হাওলাদার ও জিসান মাহমুদ বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, কাটাখালী খালের স্লুইজ গেট নির্মাণের অনুমোদন ২০২১ সালেই হয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। স্লুইজ গেট না থাকায় প্রতিবছর আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত গেটটি নির্মাণ করা হলে জমির পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং আমরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারব।”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কাটাখালী খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় তিনটি মৌজার ফসলি জমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষকরা সময়মতো জমি চাষ করতে পারছেন না। ফলন কমে যাওয়ায় প্রতিবছর তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে আগামী এক বছরের মধ্যে স্লুইজ গেট নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ সময় কৃষকরা পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনা করে স্লুইজ গেট নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ আলম বলেন, “স্লুইজ গেট নির্মাণ প্রকল্পের নকশা অনুমোদিত হয়েছে। ব্যয় প্রাক্কলনও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্লুইজ গেট নির্মাণ হলে খালের পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসলি জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষিকাজে গতি ফিরবে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করে স্লুইজ গেট নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।