কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল। বের হওয়ার পরই চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরেন পাপারাজ্জিরা। একের পর এক ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি।
তবে বলিউডের চেনা মেজাজে দেখা যায়নি তাকে, চোখে-মুখে ছিল না বিরক্তির কোনো ছাপ। বরং চওড়া হাসিতে আলোকচিত্রীদের মন জয় করেন অজয়পত্নী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হন কাজল; যা এখন অন্তর্জালে ভাইরাল। সেই সঙ্গে একটাই প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে—হঠাৎ কলকাতায় কেন কাজল?
ভারতীয় একটি গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে লাল রঙের কো-অর্ড সেট পরে দক্ষিণেশ্বরে মন্দিরে যান কাজল। এসময় কালো চশমায় ঢাকা ছিল তার চোখ। স্বাভাবিকভাবে অভিনেত্রীকে কাছ থেকে দেখতে অনুরাগীরা ভিড় জমান। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেহরক্ষীরা অভিনেত্রীকে ভিতরে নিয়ে যান। পূজা দিয়ে বের হয়ে সোজা গাড়িতে উঠে পড়েন এই অভিনেত্রী।
গত বছরের ২৭ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় কাজল অভিনীত সিনেমা ‘মা’। এ সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে কলকাতায় এসেছিলেন কাজল। গত বছরের ২২ মে, কলকাতার দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরে পূজা দেন এই অভিনেত্রী। পিচরঙা শাড়িতে ছিমছাম সাজে কাজলকে চোখের দেখা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন অনুরাগীরা। তবে এবার কেন কলকাতায় পা রেখেছেন, তা জানা যায়নি।
শনিবার কলকাতায় পৌঁছানোর পর কাজলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাইমা সেন। ইনস্টাগ্রামে কাজলের সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে রাইমা জানান, তারা দুজনে অসাধারণ একটি সন্ধ্যা কাটিয়েছেন। রাইমার এই পোস্ট নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি বাংলা সিনেমায় দেখা যাবে কাজলকে? না কি টলিউড-বলিউডের মিশেলে তৈরি হচ্ছে কোনো সিনেমা।
কাজলের কলকাতা সফর নিয়ে জোর চর্চা চললেও কারণ জানা যায়নি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময়েও তার কাছে একই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। জবাবে তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে—রহস্যময় একটি হাসি। তারপর একটি শব্দ খরচ না করে সোজা গিয়ে গাড়িতে উঠেন। ফলে তার কলকাতা সফর নিয়ে চর্চা বেড়েই চলেছে।
কাজলের এ সফরের কারণা না জানা গেলেও কলকাতার সঙ্গে তার একটি যোগ রয়েছে। কারণ পরিচালক সমু মুখার্জি ও তনুজা দম্পতির কন্যা কাজল। এক সময় ভারতীয় বাংলা সিনেমা দাপিয়ে বেরিয়েছেন তনুজা মুখার্জি।
ছোটবেলা থেকেই বাঙালি সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়ে কাজলের বেড়ে ওঠা। এখনো দুর্গাপূজায় শাড়ি পরে ঠিক বাঙালি মেয়েদের মতো সেজে ওঠেন। নিজ হাতে অতিথিদের মাঝে ভোগ-প্রসাদ পরিবেশন করেন। বাংলার সঙ্গে তার অদ্ভুত নাড়ির টান। তাই কলকাতা মানেই কাজলের কাছে অন্যরকম অনুভূতি।