বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
লোহাগড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন গ্রেপ্তার আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইভীর আইনজীবীসহ গ্রেফতার ৩ নরসিংদীতে বৃদ্ধা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, এসআই ইউসুফকে পুরস্কৃত কুষ্টিয়ায় খোকসা থানা পুলিশের অভিযানে ৩ মাদকসেবী গ্রেপ্তার: কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান ড. ইউনূসকে হেনস্তার দায় খলিলুরকে নিতে হবে: নাহিদ খোকসায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭, মাদকসেবীদের কারাদণ্ড নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার লোহাগড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমুলক সভা খোকসায় গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু গ্রেফতার গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া

সংগ্রাম প্রতিদিন ডেস্ক :
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য কেন্দ্রটিতে জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এ সময়ের মধ্যে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না। পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই বছর পর পর একবার করে জ্বালানি পরিবর্তন করলেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এর উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা। যেখানে একটি ১,০০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক কেন্দ্রের মাত্র প্রায় ২৭ টন ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট।

একইভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এখানে একাধিক স্তরের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।

প্রায় ৬০ বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পারমাণবিক জ্বালানির শক্তি সক্ষমতা সাধারণ জ্বালানির তুলনায় বহুগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

এ তুলনায় দেখা যায়, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে শত শত লিটার ডিজেল বা বিপুল পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়ামই বিশাল শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানি প্রায় ৬০ টন তেল এবং প্রায় ১০০ টন কয়লার সমান শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।

তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুয়েল পেলেটকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের আবরণ দিয়ে তা সুরক্ষিত করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশে পরিণত হয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..