চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলের তিন উপজেলা রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িকে সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং দুর্গম এলাকায় নজরদারি বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর এলাকায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থার্মাল ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।
পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলাচলকারী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও নজরদারি আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলোতে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত ও নজরদারিতে থার্মাল ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাতের অন্ধকারেও তাপের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার করা গেলে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তির চোখে নজরদারি—অপরাধ দমনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা; নিরাপদ উত্তর চট্টগ্রামের প্রত্যাশায় রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির মানুষ।