বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
লোহাগড়ায় সুপারি গাছের চারা রোপন নিয়ে সংঘর্ষে বাবা নিহত, ছেলে আহত খোকসায় মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক সভা ডিসেম্বরে কিছু হলে সরকারের ব্যর্থতার কারণে হবে: নাহিদ ইসলাম তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের আসামির রিমান্ড শুনানিতে ‘আদালতে সাংবাদিক কেন’ প্রশ্ন বিচারকের লোহাগড়ায় মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নেতানিয়াহু, জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খাঁন শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উৎসবমুখর আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর পূর্তি উদযাপন

ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নেতানিয়াহু, জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান

সংগ্রাম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের নেতারা মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার পর এই প্রথম একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন তারা। এর মধ্যেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী নেতারা বৈঠকে বসছেন। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় মিলিত হবেন। বৈঠকে জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

নির্বাচনে আইজেনকটের ব্লক ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবিরের ঝুলিতে গেছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে তার দল লিকুদের আসন ২৭টি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান তালিকাগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, নির্বাচনে বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার তারই রয়েছে।

লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই।’

আরব-প্রধান তালিকাগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এসব দল ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে’।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন আরব ইসরাইলি দলগুলোর নেতারা। তবে তারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেননি। রা’আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এই সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার প্রধানরা নিজেদের অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য এমন একটি সরকারের পতন ঘটানো, যেটিকে তারা ‘বর্ণবাদী’ মনে করেন।

বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ

আইজেনকটের ব্লকের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও আইজেনকটের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতভেদ রয়েছে। আইজেনকটের শিবিরে থাকা ডেমোক্র্যাটস পার্টির বামঘেঁষা নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

আইজেনকটের দল সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের ধারণাটি নাকচ করেছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টি এখনো এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।

ইসরাইলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দলের সমর্থনের সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবিরে থাকা কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা এবং অতি-অর্থোডক্স শাস পার্টি তার নাম সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য অতি-অর্থোডক্স দলটির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। সরকার গঠনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার হাতে সাত দিন সময় রয়েছে। এ প্রক্রিয়া ১১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে একই দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।

দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও সফল না হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টের কাছে তৃতীয় কোনো প্রার্থী মনোনয়নের অনুরোধ জানাতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ না এলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..