সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রা’ণ হারালেন পুলিশ সদস্য ‎রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত, গুরুতর ৪ জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা জাফরের উদ্যোগে দুই শতাধিক বৃক্ষরোপণ সাহিদা সুমনা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে সংসদে এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি নরসিংদীতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ পালিত ফটিকছড়িতে ইয়াবাসেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন জুয়েলের জন্মদিন পালন নড়াইলে পুকুর পাড় থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার 

সরাইলে কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষের ছাতা মেরামতের পেশা।

এম বাদল খন্দকার সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
Oplus_16908288

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলায় স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমে মানুষের। তাদের প্রাণচাঞ্চল্যে জমে ওঠে ব্যবসা। এই কোলাহলের ভিড়ে আছে এক বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠী। তারা হলেন ছাতার মেরামতের কারিগর।
যাদের হাতের ছোঁয়ায় পুরোনো ছাতা ফিরে পায় নতুন জীবন। আধুনিকতার ভিড়ে কালের স্রোতে বিলীন হতে চলছে শতবর্ষের পুরোনো পেশাটি।
একসময় বর্ষা মৌসুম এলেই শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই শোনা যেত ছাতা মেরামতকারীদের হাঁকডাক। ভাঙা শিক, ছেঁড়া কাপড়, নষ্ট স্প্রিং কিংবা হাতল বদলে অল্প খরচে পুরোনো ছাতাকে নতুনের মতো ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেন তারা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন ছাতার সহজভ্যতা, কম আয় এবং অনিয়মিত কাজের কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ছাতা মেরামতের পেশা।
সরাইল সদর ইউনিয়নের উচালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিন মিয়া প্রায় ৩৮ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। এই পেশাই ছিল তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। তবে এখন সেই পেশায় আর আগের মতো আয় নেই।
কাজের ফাঁকে মমিন মিয়া বলেন, “আগে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। বর্ষার তিন মাস ভালোভাবে কাজ করলে সারা বছরের সংসার চালানো যেত। এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকাও আয় করা কঠিন হয়ে গেছে।”
তিনি জানান, বর্ষা শেষে ছাতা মেরামতের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন সংসার চালাতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন , “আগে বর্ষার দিনে গ্রামে গ্রামে ছাতা মেরামতকারীদের হাঁকডাকে পরিবেশ মুখর থাকত। এখন বাজারে কম দামে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের নতুন ছাতা সহজেই পাওয়া যায়। ফলে মানুষ পুরোনো ছাতা মেরামত না করে নতুন ছাতা কিনতেই বেশি আগ্রহী।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির অনেক ছাতা সহজে মেরামত করা যায় না। ফলে এই পেশার চাহিদা দ্রুত কমছে। একই সঙ্গে আয় কম ও কাজ অনিয়মিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।
 
এ বিষয়ে  উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা  বলেন, “ছাতা মেরামতের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোকে সংরক্ষণ করা মানে শুধু কিছু মানুষের জীবিকা রক্ষা করা নয়; বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দক্ষ কারিগরি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।”

ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, সামাজিক সহায়তা এবং দক্ষ কারিগরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় কালের পরিক্রমায় একসময় ছাতা মেরামতের এই শতবর্ষের পেশাটি শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
 

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..