বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার  ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না : রাষ্ট্রপতি মেহেরপাড়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী রশিদ মিয়ার প্রথম পথসভা লোহাগড়ায় সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  লোহাগড়ায় পাচারকালে ৪০ বস্তা সারসহ গাড়ি আটক ভেড়ামারা থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার ‎ফটিকছড়ির সুন্দরপূরে  গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা! আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে: দুদক মুখপাত্র রাউজান-রাঙ্গুনিয়া-ফটিকছড়ি সন্ত্রাসমুক্ত করতে পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর মহাপরিকল্পনা! কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামের মতবিনিময়

সরাইলে কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষের ছাতা মেরামতের পেশা।

এম বাদল খন্দকার সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
Oplus_16908288

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলায় স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমে মানুষের। তাদের প্রাণচাঞ্চল্যে জমে ওঠে ব্যবসা। এই কোলাহলের ভিড়ে আছে এক বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠী। তারা হলেন ছাতার মেরামতের কারিগর।
যাদের হাতের ছোঁয়ায় পুরোনো ছাতা ফিরে পায় নতুন জীবন। আধুনিকতার ভিড়ে কালের স্রোতে বিলীন হতে চলছে শতবর্ষের পুরোনো পেশাটি।
একসময় বর্ষা মৌসুম এলেই শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই শোনা যেত ছাতা মেরামতকারীদের হাঁকডাক। ভাঙা শিক, ছেঁড়া কাপড়, নষ্ট স্প্রিং কিংবা হাতল বদলে অল্প খরচে পুরোনো ছাতাকে নতুনের মতো ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেন তারা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন ছাতার সহজভ্যতা, কম আয় এবং অনিয়মিত কাজের কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ছাতা মেরামতের পেশা।
সরাইল সদর ইউনিয়নের উচালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিন মিয়া প্রায় ৩৮ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। এই পেশাই ছিল তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। তবে এখন সেই পেশায় আর আগের মতো আয় নেই।
কাজের ফাঁকে মমিন মিয়া বলেন, “আগে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। বর্ষার তিন মাস ভালোভাবে কাজ করলে সারা বছরের সংসার চালানো যেত। এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকাও আয় করা কঠিন হয়ে গেছে।”
তিনি জানান, বর্ষা শেষে ছাতা মেরামতের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন সংসার চালাতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন , “আগে বর্ষার দিনে গ্রামে গ্রামে ছাতা মেরামতকারীদের হাঁকডাকে পরিবেশ মুখর থাকত। এখন বাজারে কম দামে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের নতুন ছাতা সহজেই পাওয়া যায়। ফলে মানুষ পুরোনো ছাতা মেরামত না করে নতুন ছাতা কিনতেই বেশি আগ্রহী।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির অনেক ছাতা সহজে মেরামত করা যায় না। ফলে এই পেশার চাহিদা দ্রুত কমছে। একই সঙ্গে আয় কম ও কাজ অনিয়মিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।
 
এ বিষয়ে  উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা  বলেন, “ছাতা মেরামতের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোকে সংরক্ষণ করা মানে শুধু কিছু মানুষের জীবিকা রক্ষা করা নয়; বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দক্ষ কারিগরি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।”

ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, সামাজিক সহায়তা এবং দক্ষ কারিগরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় কালের পরিক্রমায় একসময় ছাতা মেরামতের এই শতবর্ষের পেশাটি শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
 

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..