শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

মানিকগঞ্জে নদীতে ভাঙন, ফসলি জমি-বসত ভিটা নদীগর্ভে।

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২

মানিকগঞ্জে দিন দিন পদ্মা-যমুনা নদীতে পানি বৃ্দ্ধি পাওয়ায় স্রোত বেড়েছে। সে কারণে নদীর পার ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর এই ৩ উপজেলার নদীর তীর ঘেঁষা প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
এরমধ্যে শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া, মধ্যনগর, চরবৈষ্টমী, চরগঙ্গা প্রসাদ, ত্রিসুন্ডী, কুষ্টিয়া, নয়াকান্দি, মান্দ্রাখোলা, মালুচীয়া গ্রাম ও দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পারুরিয়া, কাসিদায়ারামপু গ্রামসহ হরিরামপুর উপজেলার নদীর পার ঘেঁষা গ্রামগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার ফসলি জমি, বসত ভিটা, ঘর নদী গর্ভে চলে গেছে।
এবছর ভাঙনের যে ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ৩ উপজেলার নদী তীর ঘেঁষা ফসলি জমি, বসত ভিটাসহ ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এবারের নদী ভাঙনে ইতোমধ্য শিবালয় উপজেলার ৬ গ্রামের প্রায় ৬শ একর ফসলি জমি ও ৬০ জন পরিবারের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই উপজেলার চরশিবালয়, দক্ষিণ শিবালয়, ছোট আনুলিয়া ও অন্বয়পুর গ্রামের নদী পারের প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ ফুট এলাকার বাড়ি-ঘর এবং ফসলি জমি ভাঙনের মুখে রয়েছে।
এই এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে গত বছর জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এবছর বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের তীব্রতা এত যে, জিও ব্যাগের নীচের অংশ থেকে ভাঙতে শুরু করেছে। ফলে গ্রামবাসীরা অনেকই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এখান থেকেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভরা বর্ষায় ব্যাপক আকারে নদী ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভরা বর্ষার আগেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু ব্যবসায়ীরা শুষ্ক মৌসুমে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি খননের কারণে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সে কারণে গ্রামের নিকটবর্তী এলাকা ঘেঁষে পানির স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্বয়পুর গ্রামের মো. আকতার বলেন, ‘নদীর মাঝে চর পড়ার কারণে পানির পাড় এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে বর্ষায় পানি বাড়ার সময় আমাদের গ্রামটিতে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতবার কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও এবার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিও ব্যাগের নীচের অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন থেকেই ভাঙন রোধে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে অচিরেই আমাদের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’
আলোকদিয়া চরের সন্তোষ মোল্লা বলেন, ‘আমার এই ৬৫ বছর বয়সে বর্ষার শুরুতে অনেক ভাঙন দেখেছি। বর্ষায় পানি বাড়ার সময় এবার যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তা বিগত ৫০ বছরেও এরকম ভাঙন দেখা যায়নি। শুষ্ক মৌসুমে বালু ব্যাবসায়ীরা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙন এবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।’
কাসিদয়ারামপুরের হযরত আলী বলেন, ‘এই নদীটা ছিল অনেক দূরে। ভাঙতে ভাঙতে এ পর্যন্ত এসেছে। এবছর অতিরিক্ত ভাঙছে। এ ভাঙন রোধে কেউ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ২ দিন আগে আমার ৩০ শতাশং ফসলি জমি ভাঙতে ভাঙতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’
সন্ধ্যা রানী হালদার বলেন, ‘হলদার মানুষ নদী ভাঙনের কারণে আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না, ঘুমাতে পারি না, খাইতে পারি না। আমরা এক ভাঙ্গা দিয়ে জাফরগঞ্জ থেকে এখানে এসেছি। এখানে এসেও সেই নদী ভাঙনের কবলে পড়েছি। হলদার মানুষ স্বামী কামাই করতে পারে না। ছেলেদের লেখাপড়া করাইতে পারি নাই। খুব কষ্টে দিন কাটছে কেউ কোনো খোঁজ-খবরও নেয় না।’
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জানান, নদীতে পানি বাড়ার কারণে স্রোত বেড়েছে। তাই কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সে সাব জায়গায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছি।
তিনি বলেন, ‘নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনরোধে আমরা একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এছাড়া চরাঞ্চলের নদী ভাঙন রোধ করা মুশকিল। এসব এলাকায় সরকারের টাকা খরচ করে কোনো লাভ নেই। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের প্রজেক্টটা হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..