পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাল গ্রহণের সময় প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এতে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জেলেদের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়। তবে চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেরা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন নিবন্ধিত জেলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও তাদের চাল দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসা. আসমা বেগমের স্বামী মো. বাবুল মিয়া চাল বিতরণের খরচের কথা বলে তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেছেন। একইভাবে ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ড থেকেও এভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মো. বাবুল মিয়া মুঠোফোনে জানান, চাল বিতরণের খরচ বাবদ টাকা নেওয়ার জন্য চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মেজবাউদ্দিন হাওলাদার তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মেজবাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ইউনিয়নে পৌঁছাতে বিভিন্ন ধরনের খরচ হয়। সরকারি বরাদ্দে সেই খরচ সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব মিয়া টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। টাকা তোলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের সময় অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।