লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে অতিষ্ঠ জনজীবন
ভোলা জেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত লালমোহন পৌরসভা এখন কার্যত ময়লার শহরে পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে ‘প্রথম শ্রেণি’ হলেও বাস্তবে নাগরিক সেবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বাজার এলাকার অলিগলি—সবখানেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড দীর্ঘদিন ধরে না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। গত বছর পৌরসভার স্টেডিয়ামে ময়লা ফেলা হলে সামাজিক সংগঠন ও ছাত্রজনতার প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ করা হয়। তবে এরপর কখনো ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে, কখনো ক্লিনিক সংলগ্ন সড়কে, আবার কখনো হেলিপ্যাড সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কের ওপর ও পাশে ময়লা ফেলা হয়েছে। এতে আশপাশের বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বাজার এলাকার করুণ চিত্র
লালমোহন বাজারের ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন অ্যাভিনিউ, মিঠাই পট্টি, সুটকি পট্টি, বিনোদন সিনেমা হল পট্টি, চৌরাস্তার মোড়, দত্তপাড়া, পৌর গোলচত্বর মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, খাদ্যগুদাম এলাকা, থানার মোড় ও উত্তর বাজার—প্রতিদিনই এসব স্থানে রাস্তার মাঝখানে জমে থাকে বিভিন্ন ধরনের ময়লার স্তূপ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসের উত্তর পাশে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে আছে। এমনকি একটি টিনের ঘরের চালার উপরও আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ক্ষোভ
পৌরসভার বাসিন্দা নাইমুর হাসান বলেন,
“বিগত সরকারের পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম অন্তত বাজারের ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার হবে। কিন্তু প্রশাসকের অফিসের পাশেই যখন ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে, তখন বোঝা যায় পরিস্থিতি কতটা নাজুক। দেড় বছরেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
মহাজনপট্টির ব্যবসায়ী ফরুক জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টায় দোকান খোলা হলেও ময়লা পড়ে থাকে চার রাস্তার মোড়ে। পৌরসভার গাড়ি কখনো সকাল ১০টায়, কখনো ১১টায় বা দুপুরে এসে ময়লা সরায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা চালাতে হয়। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার ময়লা না তোলায় রবিবার পর্যন্ত তা পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়। এতে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মিঠাই পট্টির ব্যবসায়ী স্বপন বলেন,
“অনেকবার অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। নোংরা পরিবেশেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। এখন নতুন সরকার এসেছে—দেখার বিষয় কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসে কি না।”
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন,
“আমাদের একটি গাড়ি নষ্ট ছিল, তাই মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও বড় কোনো সমস্যা নেই। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছেন। তারপরও কোথাও সমস্যা থাকলে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রত্যাশা কার্যকর উদ্যোগের
বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। একটি স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্ধারণ এবং সময়মতো ময়লা অপসারণ না হলে জনস্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।