আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। জনসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা দলে দলে অংশ নেন। সমাবেশকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ১১৪ পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ৪৯৭টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র রাঙ্গাবালী উপজেলা যেখানে এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল থেকে বঞ্চিত মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই খারাপ। এখানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসও নেই। আমি আপনাদের সামনে অঙ্গীকার করছি বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং আমি নির্বাচিত হলে ছয় মাসের মধ্যেই রাঙ্গাবালীতে হাসপাতালের কাজ শুরু করা হবে এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসও স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। আগামী দিনে দেশ ও রাঙ্গাবালীর নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, কে উন্নয়ন করবে তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর কেউ ব্যর্থ হলে জনগণ ভোটের মাধ্যমেই তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
এবিএম মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, বিগত দিনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, ছিল না কোনো জবাবদিহিতা। সে কারণেই আজও আমাদের এলাকায় উন্নয়নের ঘাটতি রয়ে গেছে। রাঙ্গাবালীতে এখনো রাস্তা নেই, স্কুল ভবন নেই, হাসপাতাল নেই, এমনকি অনেক এলাকায় ন্যূনতম নিরাপত্তাও নেই। বিএনপি এই রাজনীতির পরিবর্তন চায়।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি রাঙ্গাবালীর এই অবস্থা পরিবর্তন করতে চান, তাহলে অবশ্যই ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। রাঙ্গাবালীর পক্ষে সংসদে কথা বলার জন্য এখান থেকে বিএনপির প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠাতে হবে।
জনসভা চলাকালে স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্যসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবিএম মোশাররফ হোসেনের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এতে জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়।
জনসভা শেষে নেতারা জানান, রাঙ্গাবালীর উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।