সিন্ডিকেটের ফাঁদে কুয়েতের ভিসা
ভিসা ফি ৫৩০০ টাকা, আদায় ৪০ হাজার!
৮ বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর কাছ থেকে হাতিয়েছে শত কোটি টাকা
সিন্ডিকেট প্রধান আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন
কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অন্তত সাত গুণ বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে গত আট বছরে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন আব্দুস সালাম আরেফ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে শ্রমিক ভিসা প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ৫ হাজার ৩০০ টাকার পরিবর্তে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে এবং সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে পরিচিত আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করা হয়েছে।
কমিশনের পাঠানো নোটিশ অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার তাকে স্বশরীরে অথবা মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিশনের সামনে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত তারিখে হাজির না হলে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এজেন্সি সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম আরেফ দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতগামী ভিসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন। গত ৮ বছরে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কুয়েতে গেছেন, যাদের কাছ থেকে ভিসা ফি’র বাইরে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। অথচ দেশে প্রায় ২ হাজার ৯শ’ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেট করে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুস সালাম আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড ও এয়ার স্পিড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সভাপতি ছিলেন। তবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে সরকার তার নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আটাবের শীর্ষ পদে থেকে নিজের প্রভাব খাটিয়ে আরেফ কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং পরে সরকারি ফি ৫ হাজার ৩০০ টাকার বিপরীতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় শুরু করেন।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, এক রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে আহ্বায়ক করে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।