এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিগত বছরের তুলনায় সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবার প্রথমবারের মতো দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রের বদলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার সার্বিক গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি বোর্ডেই পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই নয়টি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। ফলে সাধারণ বোর্ডগুলোতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশে, যা গত বছরের ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশের তুলনায় বেশ কম। এর মধ্যে পাসের হারে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে বরিশাল বোর্ডে। গত বছর এই বোর্ডে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকলেও, এবার ১৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে তা ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশের সব বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। তবে ঢাকার ফলাফলেও অবনতি হয়েছে; গত বছরের ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে কমে এবার ঢাকায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের এই ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ (গত বছর ৫৯.৪০%), দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ (গত বছর ৫৭.৪৯%), কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ (গত বছর ৪৮.৮৬%), যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ (গত বছর ৫০.২০%), চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ (গত বছর ৫২.৫৭%), সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ (গত বছর ৫১.৮৬%) এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ (গত বছর ৫১.৫৪%)।
সাধারণ বোর্ডগুলোর পাশাপাশি সমমানের অন্য দুটি শিক্ষা বোর্ডেও পাসের হার লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন, যেখানে ২০২৫ সালে এই পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও এবার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুধুমাত্র নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ২১৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১ জন এবং ছাত্রদের সংখ্যা ২০ হাজার ৩৬৩ জন। গত বছর ৩৭ হাজার ৪৪ জন ছাত্রী এবং ৩২ হাজার ৫৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সার্বিক এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, অভিন্ন প্রশ্নপত্রের এ বছরের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।