এক টুকরো খাবার না পাওয়ার ক্ষোভেই প্রাণ গেল সত্তরোর্ধ্ব এক বাবুর্চির। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আনজুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি ইল হাসান দাখিল মাদরাসার হোস্টেলে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে, জুমার নামাজের পর। মাদরাসার পাকশালায় তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণে ব্যস্ত ছিলেন হোস্টেলের বাবুর্চি ফজর আলী (৭০)। হিসাব করে রান্না করা খাবার ইতোমধ্যে ছাত্রদের মধ্যে বণ্টন হয়ে গিয়েছিল। ঠিক এমন সময় এক ছদ্মবেশী ব্যক্তি সেখানে এসে খাবার দাবি করে। বাড়তি খাবার না থাকায় ফজর আলী তাকে দিতে না পারায় মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরিচিত ওই ব্যক্তি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, কিছু বোঝার আগেই হামলাকারী হাতের কাছে থাকা ভারী বস্তু (চলাখড়ি) দিয়ে পেছন থেকে ফজর আলীর মাথায় একের পর এক আঘাত করতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী সোনাবান বিবি (৭০) নামের এক নারী; কিন্তু তিনিও রেহাই পাননি—হামলাকারীর আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনিও।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ফজর আলীকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ামাত্রই গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্ত হামলাকারীকে আটক করে।
নিহত ফজর আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের মল্লিক পাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তার পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তের কাজ চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।”