রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান ১১ দলের ঘোষিত ৫ সেপ্টেম্বরের চট্টগ্রামে লংমার্চ সফল করতে  উত্তর জেলা জামায়াতের  দায়িত্বশীল সমাবেশ। নেপালে আকস্মিক বন্যা–ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, এখনো নিখোঁজ ৪০৩ জন গোয়ালন্দে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন মান্নান হত্যা মামলায় সন্দেহভাজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।  গোয়ালন্দে ঘরের ভেতর যুবককে গলা কে’টে হ’ত্যা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর নিয়ে আন্দোলন,  পাশে দাড়িয়েছেন সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। জকসুর উদ্যোগে জবি মেডিকেল সেন্টারে যুক্ত হচ্ছে ১৩ আধুনিক যন্ত্র রাশিয়ার দুই আন্তর্জাতিক আয়োজনে পুতিনের আমন্ত্রণ পেলেন সাবেক জবি শিক্ষার্থী শিফা হালদা রক্ষায় আপস নয়, বালি-মাটি উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি: এমপি সরোয়ার আলমগীর

​মাদকের নীল দংশনে বিপন্ন যুবসমাজ: খোকসায় বাড়ছে সামাজিক অপরাধ।

​জাহাঙ্গীর আলম রানা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি 
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
​দেশজুড়ে মাদকের মরণকামড় প্রতিনিয়ত তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, ধ্বংস করছে হাজারো পরিবার। এর ব্যতিক্রম নয় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলাও। সীমান্ত ঘেঁষা জেলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র এখানে মাদকের এক অদৃশ্য জাল বিছিয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন থেকে শুরু করে হাল আমলের ‘আইস’ বা ক্রিস্টাল মেথের মতো মারাত্মক মাদক এখন ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে। আর এর প্রধান শিকার হচ্ছে সমাজের মেরুদণ্ড—তরুণ ও যুবসমাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোকসা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদকসেবীদের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। শুধু তাই নয়, মাদকের এই মরণনেশার কারণে প্রতিনিয়ত পারিবারিক অশান্তি, বিবাহবিচ্ছেদ এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। অনেক মা-বাবা নিজের সন্তানের মাদকাসক্তিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, সমাজ হারাচ্ছে তার অমিত সম্ভাবনাময় তরুণদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরেও মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ছদ্মবেশে নিত্যনতুন উপায়ে মাদক ঢুকছে এলাকায়। এছাড়া বেকারত্ব, হতাশা এবং পারিবারিক সঠিক তদারকির অভাবে অনেক কিশোর ও তরুণ কৌতূহলবশত প্রথমে মাদক গ্রহণ করছে এবং পরবর্তীতে তা মরণনেশায় রূপ নিচ্ছে।
এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে কেবল প্রশাসনের অভিযানের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন।
​পারিবারিক সচেতনতা: সন্তান কার সাথে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে—সে বিষয়ে প্রতিটি পরিবারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
​সামাজিক প্রতিরোধ: মাদকের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে।
​আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা: মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
​সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ: তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে বেশি বেশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা জরুরি।
এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রানা বলেন, “মাদক ও সন্ত্রাস একটি সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়। খোকসাবাসীকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে হলে শুধু প্রশাসন নয়, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হই এবং মাদককে ‘না’ বলি, তবেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ খোকসা গড়ে তোলা সম্ভব।”
​সময় এখনই। মাদকের এই ভয়াবহ আগ্রাসন রুখতে না পারলে আগামী প্রজন্ম এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। তাই প্রশাসন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..