নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল গ্রামে রিকশাচালক আব্দুল মান্নান (১৯) ওরফে মান্না হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনদের এজাহারে নাম অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
২৬ আগস্ট বুধবার ১১ ঘটিকার সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মান্নার চাচা মোঃ জামাল মিঞা।
লিখিত বক্তব্যে জামাল মিঞা জানান, গত ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার পর থেকে মান্না নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর গত ১৩ আগস্ট কান্দাইল ছেরেন্দা কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের একটি নির্জন স্থান থেকে তার অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পরনের পোশাক দেখে স্বজনরা লাশটি মান্নার বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত মান্নার বাবা ফারুক বাদী হয়ে মাধবদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, মান্না নিখোঁজ হওয়ার দিন কান্দাইল উত্তর পাড়ার মুনজুর (পিতা: ডিপটি), রবিউল (পিতা: বাতেন), খোকন (পিতা: ইকবাল), মহসিন (পিতা: ফাতু মিঞা), নাসিম (পিতা: নজরুল), পায়েল (পিতা: সামসুল) ও আমানুল্লা (পিতা: অলিউল্লা)—এই ব্যক্তিরা তার সাথে দীর্ঘ সময় আড্ডা দিয়েছে। এরপর থেকেই মান্না নিখোঁজ হন।
নিহতের পরিবারের দাবি, লাশ উদ্ধারের পর এসব তথ্য ও সন্দেহভাজনদের তালিকা একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এজাহারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা তো দূরের কথা, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও পুলিশ তাদের তলব করেনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মান্না হত্যার নেপথ্য রহস্য উন্মোচন, উল্লিখিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মামলায় আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ও গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহতের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলন শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা সকল আসামীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।