কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় অনলাইন গেমিংয়ের আড়ালে আশঙ্কাজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল জুয়া। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে একাধিক জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুবসমাজকে এই প্রাণঘাতী নেশার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কোনো পরিশ্রম ছাড়াই রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রলোভনে পড়ে এলাকাটির শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের তরুণদের বড় একটি অংশ এখন এই ফাঁদে বন্দি।
ফ্রি ফায়ার আর পাবজি থেকে ‘ওয়ান-এক্স-বেট’
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো জনপ্রিয় মোবাইল গেম খেলার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে তরুণরা যুক্ত হচ্ছে ‘১এক্সবেট’ (1xBet), ‘মেলবেট’ (Melbet), ‘মোস্টবেট’ (Mostbet) কিংবা বিভিন্ন ক্যাসিনো অ্যাপের সাথে। এসব অ্যাপে ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচসহ বিভিন্ন ক্যাসিনো গেমে বাজি ধরা হয়। অ্যাপ চালনার সুবিধার জন্য বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এক শ্রেণির এজেন্টও গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা লেনদেনে সহায়তা করে।
সর্বশান্ত পরিবার, বাড়ছে অপরাধ
অনলাইন জুয়ার কারণে খোকসার অনেক পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে। মোবাইল রিচার্জ কিংবা পড়াশোনার খরচের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী তা জুয়ায় ঢালছে। হারানো টাকা তুলতে গিয়ে আরও বড় অঙ্কের দেনায় জড়িয়ে পড়ছে তারা। ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, সুদে টাকা নেওয়া এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন:
”ছেলে সারাদিন মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে। ভেবেছিলাম গেম খেলছে, পরে জানতে পারলাম জুয়ায় জড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। পড়ার টেবিল থেকে যুবসমাজ আজ ভার্চুয়াল ক্যাসিনোয় সময় কাটাচ্ছে।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, কেবল পুলিশের ওপর ভরসা না করে পারিবারিক সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে জরুরি। সন্তান মোবাইলে কী করছে এবং অতিরিক্ত খরচের জন্য টাকা চাইছে কি না—সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে।
অনলাইন জুয়ার এই আগ্রাসন থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে দ্রুত মোবাইল অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ এবং পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
থানা পুলিশকে এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের ধরে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার
জোর দাবি জানিয়েছেন খোকসাবাসী।
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..