শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফর? খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর নিয়ে আন্দোলন,  পাশে দাড়িয়েছেন সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। জকসুর উদ্যোগে জবি মেডিকেল সেন্টারে যুক্ত হচ্ছে ১৩ আধুনিক যন্ত্র রাশিয়ার দুই আন্তর্জাতিক আয়োজনে পুতিনের আমন্ত্রণ পেলেন সাবেক জবি শিক্ষার্থী শিফা হালদা রক্ষায় আপস নয়, বালি-মাটি উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি: এমপি সরোয়ার আলমগীর আজ চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’, ঢাকার ৯টি রুটে মিলবে সেবা বর্তমানে যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট হচ্ছে, এর দায় সরকারের নয়: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে কারা, আলোচনায় একাধিক নেতা নরসিংদীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ​খোকসায় চুরির মামলার আসামী গ্রেফতার, জবানবন্দীর জন্য আদালতে প্রেরণ

এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফর? খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

ক্রাইম রিপোর্টার
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি  বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত ছুটি ও প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়া বিদেশ সফরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি টানা কয়েকদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে গুদামের নিয়মিত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট নূরে আলম মজুমদার তার ছেলে মাকসুদ মজুমদারকে (তামিম) সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সূত্রের দাবি, নূরে আলমের পাসপোর্ট নম্বর A16366148 এবং তার ছেলের পাসপোর্ট নম্বর A16366149। তারা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন বলে জানা গেছে। পরে ১৬ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফেরেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন, ছুটি কিংবা এনওসি নিয়েছিলেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করলেই এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অফিসে অনুপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা
কলতাবাজার খাদ্য গুদামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত নেই। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচজন কর্মকর্তার মধ্যে একাধিক কর্মকর্তা ওই সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ সময় গুদামের উপ-খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল প্রথমে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদারকে ডিসি অফিসে আছেন বলে জানান। পরে তিনি কয়েকজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেন।
অনুপস্থিতদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার, সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রবিউল ইসলাম এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ঠাকুর দাসের নাম জানা গেছে। ইব্রাহিম খলিল নিজেও কয়েকদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অফিসের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে কয়েকজনের অনুপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
ছুটির আবেদনে অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
নূরে আলম মজুমদারের ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে একটি ছুটির আবেদন দেখানো হয়। তবে ওই আবেদনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নথি যাচাই করা হলে তিনি নিয়ম মেনে ছুটি নিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘এনওসি নিয়েছেন কি না জানা নেই’
এ বিষয়ে সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি অফিসে ছিলেন না। তিনি এনওসি নিয়েছেন কি না, সেটা আমরা জানি না।”
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে খাদ্যশস্য খালাস, চাল বিতরণ এবং নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। তবে এসব কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কর্মকর্তার দাবি, ‘ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লায় গিয়েছিলাম’
অভিযোগের বিষয়ে কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সৌদি আরব সফরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য কুমিল্লায় গিয়েছিলেন।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার বিদেশ সফরের বিষয়ে যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নূরে আলম মজুমদারের বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র মিলিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন প্রতিবেদক। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নূরে আলম মজুমদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। দেশের বাইরে যাওয়া তো প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশ সফরের আগে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও এনওসি নিয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি গুদামের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..