নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে রাতের আঁধারে মসজিদের জমি থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে স্থানীয় একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ঘুষের বিনিময়ে থানা পুলিশের সহায়তার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত দুই দিন ধরে উপজেলার নাটেশ্বর এলাকার মিউনহাজী শাহী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দানকৃত জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। রাতের অন্ধকারে স্কেভেটর (ভেকু) মেশিন ব্যবহার করে কয়েক ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে পুলিশ ফিরে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মিউনহাজী শাহী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাখায়েত উল্লাহ জানান, দানকৃত জমি থেকে টানা দুই রাত ধরে মাটি কাটা হচ্ছে। জমিটি মৃত হাজী ইদরিস মিয়া মসজিদের নামে দান করেছিলেন। বর্তমানে তার নাতি তাজুল ইসলাম ওই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মসজিদের সহ-সভাপতি ও নাটেশ্বর ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ মাকসুদ উল্লাহ বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কাজে জড়িত। চৌধুরী, বেলাল ও সালাহউদ্দিন নামে কয়েকজন ব্যক্তি মাটি কাটায় সহায়তা করছে। তাজুল ইসলাম মাটি বিক্রি করছেন এবং সালাহউদ্দিন চক্র তা কিনছে। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ এসে প্রায় দুই হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের পাশের জমিতে একটি স্কেভেটর মেশিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং জমির বিভিন্ন স্থানে ৪ থেকে ৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লী, মসজিদ কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, বারবার প্রতিবাদ করা হলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। অভিযোগ করলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আখতার বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন, তবে সেখানে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।