নেত্রকোনার মদন উপজেলায় গরু জবাইয়ের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালিবিন্নী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে জানে আলম, সাদেক, কামাল খান, কামাল তালুকদার, পুতুল ও মারুফ গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আহতরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো গ্রামবাসীরা ভাগাভাগি করে গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে গ্রামের মাজু মিয়া তার গোত্রের লোকজনকে নিয়ে একটি গরু কেনার জন্য চাঁদা তুলছিলেন। তার তালিকায় গোত্রের বাইরের কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এ বিষয়ে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া আপত্তি জানিয়ে বলেন, গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব গোত্রকে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, অন্যথায় গ্রামে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ নিয়ে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে মাজু মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়ার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে জাহাঙ্গীর মিয়ার পক্ষের লোকজন সিদ্দিক, সন্টু ও জজ মিয়ার ঘর ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার গ্রামে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জজ মিয়াকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিলে মাজু ভুঁইয়া আপত্তি জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মাজু ভুঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়; প্রতিপক্ষ নিজেরাই এসব করেছে।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত বলেন, “ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গরু জবাইয়ের বিষয় নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বাড়িঘর ভাঙচুরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।