নির্বাচনের পর কোন দল সরকার গঠন করবে—এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে সংসদে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তার ওপর। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলের হিসাবে এবার সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
তবে ফল ঘোষণার পর সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন—কার্যত সংসদ ও স্পিকার না থাকলে নতুন সরকারের শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ কীভাবে সম্পন্ন হবে?
🔹 শপথের সময়সীমা কী?
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল চূড়ান্ত নয়। গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক সময়সীমা কার্যকর হয় না। ফলে ভোটগণনা শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
সরকারি সূত্র বলছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই শপথ আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে, যাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়।
🔹 স্পিকার না থাকলে শপথ পড়াবেন কে?
সাধারণত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান স্পিকার। কিন্তু স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কার্যকর না থাকলে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে—
রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ পরিচালনা করতে পারেন।
প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির মতো কোনো সাংবিধানিক পদধারীকেও মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে।
নির্ধারিত সময়ে মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পরিচালনা করবেন।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলও দ্রুত শপথ আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না ঘটে।
🔹 সরকার গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়?
শপথের পরবর্তী ধাপ সরকার গঠন। এখানে মূল ভূমিকা পালন করেন রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
যে দল বা জোট এককভাবে সংসদের অর্ধেকের বেশি আসন পায়, সেই দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গঠিত হয় মন্ত্রিসভা।
🔹 ক্ষমতা হস্তান্তর কখন কার্যকর হয়?
সংবিধান অনুযায়ী, যেসব পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ বাধ্যতামূলক, সেখানে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হন।
অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই নতুন সরকারের ক্ষমতা কার্যকর হয় এবং আগের সরকারের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
সারসংক্ষেপ
সংসদ ও স্পিকারের অনুপস্থিতি কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সংবিধানে নির্ধারিত বিকল্প ব্যবস্থার কারণে শপথ ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া থেমে থাকার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ধারার মধ্য দিয়েই দ্রুত নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পথ উন্মুক্ত থাকে।