ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক জেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। এ মহাসড়কের সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কটিতে যানবাহনের চাপ থাকে।
সরেজমিনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে এ মহাসড়কে দুই শতাধিক সিএনজি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান তাঁরা। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অদক্ষ ও প্রশিক্ষণহীন চালক। আগে অটোরিকশা চালাতেন, এমন অনেকেই এখন সিএনজি চালাচ্ছেন। তাঁদের অনেকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া বেপরোয়া গতি, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় দিনের বেলায় গাড়ি চালানোর সময় চালকদের ঘুমিয়ে পড়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে ভোলা সদর বাসস্ট্যান্ডের সিএনজি লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন রাজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চালকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, সিএনজি চালকদের মধ্যে কেউ কেউ আগে অটোরিকশা চালাতেন। আবার কিছু চালকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের লাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে না চাইলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুরোধে অনেক সময় রাখতে হয়।
তবে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তাঁদের নাম প্রকাশে অপারগতা জানান।
এদিকে বিষয়টি ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমানকে জানানো হলে তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সচেতন মহলের দাবি, ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করা এবং বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যথায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মহাসড়কে চলাচল করতে হবে সাধারণ মানুষকে।