সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ৫০০ বছরের পুরনো শদাইশাহ (রা.) মাজার নড়াইলে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে-পিটিয়ে গুরুতর জখম টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, শ্রেষ্ঠ ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাঙ্গাবালীতে জেলে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, টাকা আদায়ের ক্ষোভ বাঞ্ছারামপুরে গ্যাস সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান, ১৩ ডিলারকে জরিমানা তৃণমূলের আস্থা সাজ্জাদ মুন্নার হাতে, ছাত্রদলের নেতৃত্বে দেখার দাবি কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর শোক কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর শোক জ্বালানি সংকটে রোববার থেকে নতুন অফিস সময়সূচি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ৫০০ বছরের পুরনো শদাইশাহ (রা.) মাজার

রিমন আহমদ, সিলেট থেকে:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
Oplus_16908288

গোলাপগঞ্জে আতঙ্ক—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হারাবে ঐতিহ্যের স্মৃতি
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইচক গ্রামে অবস্থিত হযরত শদাইশাহ (রা.)-এর প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো মাজার কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে মাজারের সীমানা প্রাচীরের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে মূল মাজার ভবনটিও।
সাম্প্রতিক সময়ে নদীর স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাজারসংলগ্ন মাটি ধসে পড়ছে এবং চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় পুরো স্থাপনাটি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কুশিয়ারা পাড়ের কৃতি সন্তান জেড রহমান জুনু বলেন, “এই মাজার শুধু আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির স্থান নয়, এটি আমাদের এলাকার বহু পুরনো ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। কিন্তু এখন আমরা অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছি—মনে হচ্ছে চোখের সামনে ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে।”
মাজারের খাদিম শামসুল ইসলাম গেদাই জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হলেও ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “হযরত শদাইশাহ (রা.)-এর মাজার আমাদের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। খুব দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেসব পরিবারের বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষা সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী নয়—স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জিওব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই এলাকা রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।
কুশিয়ারা নদীর এই ভয়াবহ ভাঙন শুধু একটি মাজারকেই হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং আশপাশের বসতবাড়ি ও পুরো এলাকার মানুষকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, ইতিহাসের একটি মূল্যবান নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..