বহু জল্পনা-কল্পনার পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei–এর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। প্রথমে অস্বীকার করা হলেও পরে সরকার জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে প্রাসাদে চালানো হামলায় তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুতে দেশে ৪০ দিনের গণশোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়নি বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। রোববার (১ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।”
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে অত্যন্ত নিখুঁত ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা প্রাণ হারান। তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের জন্য এটি দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তারা নিরাপত্তা বা ক্ষমা চাইছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “এখনই সুযোগ—দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া কিছুই পাবে না।”
হামলা কতদিন চলবে—এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের “নিখুঁত ও ভারী বিমান হামলা” পুরো সপ্তাহজুড়ে কিংবা প্রয়োজন হলে বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির প্রাসাদে হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে পুরো কমপ্লেক্স ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা সেখান থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।