মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: আটক ১৫, অস্ত্র উদ্ধার সুবর্ণচরে ৪ পরিবারের চলাচলের পথে বাধা, প্রতিবাদে মানববন্ধন নরসিংদীতে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত খোকসায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা সোনাইমুড়ীর মাদক কারবারি পান্না আটক সিইউএফএল অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত লোহাগড়ায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ মির্জাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত লোহাগড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত ইমাম হোসেন হত্যা মামলার জের: মদনে বৃদ্ধা জাহেলা আক্তারকে মারধরের অভিযোগ

খামেনির পর ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ হারানোর আগেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা রেখে গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় চার দশক ধরে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বময় কর্তৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ছিল তার হাতে। ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনি–এর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দাবি করেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করে।
উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে একজন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হতে হয়। তাকে নির্বাচন করে ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ নামে পরিচিত ধর্মীয় পরিষদ।
খামেনি আত্মগোপনে থাকার সময় সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম নির্ধারণ করেছিলেন বলে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা হলেন—
বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই
খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি
সংস্কারপন্থি ধারার ধর্মীয় নেতা ও খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি
এ ছাড়া খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি–এর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও, নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করতে চাননি খামেনি—এমনটাই জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা
হামলার আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি–কে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তিনি কার্যত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান–কে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের পাস্তুর কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে—যেখানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন, দপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত।
সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনি একটি ছোট রাজনৈতিক ও সামরিক মহলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ছিলেন—
আলী আসগর হেজাজি
পার্লামেন্টের স্পিকার ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ
সাবেক গার্ড প্রধান ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি
তবে শনিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি, কার্যকর নেতৃত্ব বর্তমানে কার হাতে রয়েছে।
পরিস্থিতি অনিশ্চিত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের কিছু নেতা হারালেও সেটি বড় সমস্যা নয়। আত্মরক্ষায় আমাদের কোনো সীমা নেই।’
খামেনির মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও সামরিক প্রভাব—এই তিন উপাদানের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠক ডাকা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..