রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান ১১ দলের ঘোষিত ৫ সেপ্টেম্বরের চট্টগ্রামে লংমার্চ সফল করতে  উত্তর জেলা জামায়াতের  দায়িত্বশীল সমাবেশ। নেপালে আকস্মিক বন্যা–ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, এখনো নিখোঁজ ৪০৩ জন গোয়ালন্দে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন মান্নান হত্যা মামলায় সন্দেহভাজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।  গোয়ালন্দে ঘরের ভেতর যুবককে গলা কে’টে হ’ত্যা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর নিয়ে আন্দোলন,  পাশে দাড়িয়েছেন সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। জকসুর উদ্যোগে জবি মেডিকেল সেন্টারে যুক্ত হচ্ছে ১৩ আধুনিক যন্ত্র রাশিয়ার দুই আন্তর্জাতিক আয়োজনে পুতিনের আমন্ত্রণ পেলেন সাবেক জবি শিক্ষার্থী শিফা হালদা রক্ষায় আপস নয়, বালি-মাটি উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি: এমপি সরোয়ার আলমগীর

বিশেষ টোকেনে হাইওয়ে পুলিশের মাসিক চাঁদা, এক থানা থেকেই অর্ধকোটি

আবু রায়হান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের মাসিক চাঁদা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাছ, দুই পাখি কিংবা বটগাছের প্রতীকযুক্ত টোকেন ব্যবহার করে নিয়মিত অর্থ আদায়ের দাবি করেছেন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের পোশাক পরিয়ে বহিরাগতদের দিয়েও তোলা হচ্ছে চাঁদা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতি থানায় ৫০০ টাকা এবং পিকআপ ভ্যানসহ অন্যান্য পরিবহন থেকে অন্তত ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিমাসে শুধু একটি থানা থেকেই অন্তত অর্ধকোটি টাকা হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল করে। চালকদের অভিযোগ, এই সড়কেই বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে চলছে মাসিক চাঁদা বাণিজ্য।
চালকদের দাবি, মাছ, দুই পাখি কিংবা বটগাছের প্রতীকযুক্ত টোকেন সংগ্রহ করলেই মাসজুড়ে আর কোনো ঝামেলা থাকে না। তবে মাসিক চুক্তি না থাকলে কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশের এক পরিদর্শক এসব মান্থলি আদায়ের জন্য নিজের ভাগিনা নাঈম হাসানকে নিয়ে এসেছেন। সড়কে তাকে সবাই ‘ভাগিনা নাঈম’ নামেই চেনে। কেউ তার নির্দেশ অমান্য করলে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক চালক বলেন, “গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে মামলা দেওয়া হয়। ভয়ে আমরা টাকা দিয়ে দেই।”
চুক্তিতে রাজি না হলে গাড়ি রিক্যুইজিশন ও মোটরযান আইনে মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন চালকরা। ভৈরব–ময়মনসিংহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত টাকা আদায়ের কথাও জানিয়েছেন তারা।
চালকদের ভাষ্য, হাইওয়ে সড়কে উঠলেই মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়া হয়। তখন খরচ পড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
চালকদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি এই সড়কে চলাচল করে। কটিয়াদী–ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ চালকপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে আদায় করছে। এতে মাসিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত অর্ধকোটি টাকা। দুই থানার হিসাবে তা কোটি টাকার বেশি।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ তার ভাগিনা নাঈম হাসানকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে ডিউটিতে রাখছেন এবং টোকেন বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সরেজমিনে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ বলেন, “কাজের সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হয়। তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা হয় না।” ভাগিনাকে পুলিশের পোশাক পরানোর বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের যেকোনো অনিয়ম নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..