আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ বোরকা তৈরি করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
তিনি বলেন, বোরকার আড়ালে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ভুয়া ভোট দেওয়ার একটি গোপন নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতিটি কেন্দ্রে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা। তাঁর দাবি, সরকারের ভেতরে ও নির্বাচন কমিশনে একটি চক্র সক্রিয়ভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে ভোটের ফলাফল ঘোষণায় ইচ্ছাকৃত বিলম্বের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হলে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত হবে। এমন বিলম্ব হলে বিএনপি ও জনগণ সেই ফলাফল মেনে নেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে জানান। ডিজিটাল যুগে ফল প্রকাশে অযৌক্তিক দেরি মানেই কারচুপির ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।