নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় প্রত্যাশা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর সাথে টিকটক ভিডিও করেন প্রিয়া নামে ওই ক্লিনিকের একজন নার্স। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ওই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
এসময় চিকিৎসক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, ইপিআই প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী প্রশান্ত ঘোষ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, লোহাগড়া উপজেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি কাজী মুরাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বাপ্পিসহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার জয়পুর গ্রামের প্রবেশ পথে প্রত্যাশা ক্লিনিকে কর্মরত নার্স প্রিয়া অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে অচেতন ও মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে “টিকটক” করে ফেসবুকে আপলোড করেন। যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি বর্হিভুত।
এ নিয়ে বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ভুল স্বীকার করেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান।
অন্যদিকে প্রত্যাশা ক্লিনিকের মালিক সেলিম মিয়া ভুল স্বীকার করে প্রিয়াকে ক্ষমা করে দিতে বলেন।
এ নিয়ে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে দেন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত বলেন, অপারেশন থিয়েটারে কোন কর্মকাণ্ড প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আর সেখানে মুমূর্ষু রোগীকে অপারেশন থিয়েটারের বেডে রেখে টিকটক করা সীমাহীন অপরাধ। অপারেশন থিয়েটারে টিকটক ভিডিও প্রকাশ হলে এটি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে। পরে নড়াইল জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে অভিযুক্ত ওই প্রত্যাশা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করা হয়, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।