৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ২০২৬ ভাড়াটিয়া বাসা হতে খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি হাফিজা আক্তার(৭)। ১৩ফেব্রুয়ারি শনিবার বাসার পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘর হতে পাওয়া গেল শিশু হাফিজার অর্ধ-গলিত লাশ।
পারিবারিক সূত্রে দেয়া তথ্য মতে,হাফিজার বাবা সোহেল মিয়া বিগত পাঁচ বছর যাবত টাঙ্গাইল জেলাধীন মির্জাপুর উপজেলার কদিম দেওহাটা নামক কওচা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। তার নিজের বাড়ি উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামে। গত শনিবার বিকাল ৩টায় পাড়ার অন্যান্য শিশুদের সাথে বাসার পাশে খেলতে যায় শিশু হাফিজা। তার মা চায়না বেগম তখন গৃহ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিশু হাফিজা প্রতিদিন সমবয়সীদের সাথে খেলতে যেতো এবং সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসতো। ঘটনার দিনও তার মা নিশ্চিন্ত ছিলেন এই ভেবে যে, হাফিজা নিজে নিজেই বাসায় ফিরে আসবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নেমে আসে কিন্তু হাফিজা বাসায় ফিরে আসে না। তখন তার মা ব্যাকুল হয়ে মেয়েকে আশেপাশের বাসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ততক্ষনে বিষয়টি তার বাবা, তার চাচা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়।
হাফিজার বাবার মুঠোফোনে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয় হাফিজাকে অপহরণ করা হয়েছে। ১০হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে হাফিজাকে ছেড়ে দেয়া হবে।
হাফিজার বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে মির্জাপুর থানায় হাজির হয়ে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নুরু নবী এক পর্যায়ে অপহরণকারী সদস্যদের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। হাফিজার বাবা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছেন বিষয়টি জানার পর তারা ওই নাম্বারটি বন্ধ করে রাখেন। এরপর হতে আর অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার দু’দিন বাদে আবারো একজন হাফিজার বাবার নাম্বারে ফোন করে ১০হাজার টাকা দাবি করে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ টাকা দাবি করা লোককে ধরে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে মেয়ে হারানো হাফিজার পিতা মাতার কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আতঙ্ক সহ শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিবেশীদের মাঝে।মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার সব রকম সাহায্য সহায়তা কামনা করেন মির্জাপুর থানা প্রশাসনের কাছে। মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাফিজার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পিতা মাতার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। মেয়ে হারানোর শোকে হত-বিহবল হয়ে পড়েন তারা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, শিশু হাফিজার
নিখোঁজ এবং নিহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে পুলিশ।