কুষ্টিয়ার খোকসায় খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সংলগ্ন খোকসা জানিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে প্রতি মঙ্গলবার বসে সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট। সপ্তাহের এই নির্দিষ্ট দিনে সকাল থেকেই পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক বিশাল যানজট ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে, যার ফলে চরম ভোগান্ত পোহাতে হচ্ছে ওই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মঙ্গলবার সকালে খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খোকসা জঙ্গিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে। পেঁয়াজের বস্তা বোঝাই শতেক শতেক নসিমন, করিমন, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন পুরো সড়কজুড়ে এলোমেলোভাবে পার্ক করে রাখা হয়। এতে করে বিদ্যালয় দুটির প্রধান প্রবেশপথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি ও পথচলায় বাধা
মঙ্গলবার সকালে যখন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা শুরু করে, ঠিক তখনই হাটের ব্যস্ততা থাকে চরমে। তীব্র যানজট, হকার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহল এবং দ্রুতগামী বা অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে শিক্ষার্থীদের হেঁটে চলাচলেও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। অনেক সময় ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পেঁয়াজের বস্তার ফাঁক গলে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
”প্রতি মঙ্গলবার সকালে সন্তানকে একা স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়। রাস্তা জুড়ে করিমন, ভ্যান আর ভিড়ে হাঁটাহাঁটির পরিবেশ থাকে না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
দ্রুত সমাধানের দাবি
এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর এলাকার সামনে এভাবে হাট বসা এবং সড়ক জুড়ে যানবাহন রাখায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তারা আরও জানান, প্রতি সপ্তাহের এই চরম ভোগান্তি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে দ্রুত হাটটিকে অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গায় স্থানান্তর করা অথবা অন্তত বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এই সড়কে যানবাহন চলাচল ও বেপরোয়া পার্কিং নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।