শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মধুখালীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লোহাগড়ায় সংখ্যালঘুদের চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করে রেখেছে একদল ভূমি দস্যু  সন্ত্রাসী  লোহাগড়ায় পুলিশের তান্ডব প্রতিবাদে  এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন  বাগেরহাটের মংলায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারি আটক নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে হিলফুল ফুজুল যুব সংঘের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রিক বিতরণ খুলনার রূপসায় সালাম জুট মিলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬ টি ইউনিট , নড়াইলে ধান ক্ষেতে প্রতিক্ষণ বিমান!  রাউজান থানায় সড়ক দূর্ঘটনায় বাঁশখালীর ২ হাফেজ ইমামের মৃ*ত্যু বাগেরহাটে অসহায় হত দরিদ্র মানুষের হাতে ঈদ উপহার তুলে দিলেন জনতার এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময় গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র উদ্যোগে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীতে গভাদী পশুর “খুরা” রোগের প্রকোপে দিশেহারা খামারী।

মোঃ হানিফ মিয়া রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী প্রতিনিধি 
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩
 রাঙ্গাবালী  উপজেলায় গত এক মাস ধরে ব্যাপক হারে গবাদি পশুর খুরা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ রোগে উপজেলায় অন্তত সাত হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রানী সম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে খুরা রোগ প্রতিরোধের এফএমডি (ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ) ভ্যাকসিন নেই। এতে দিশেহারা হয়ে পরেছেন খামারীরা। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিন না থাকায় খামারীদের বাহির থেকে বিভিন্ন কোম্পনীর ভ্যাকসিন উচ্চ মুল্যে কিনতে হচ্ছে। দ্রুত ভ্যাকসিনের দাবী করেছেন খামারীরা।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পারিবারিক খামারে প্রায় লক্ষাধিক গরু তিন হাজার ৬’শ মহিষ ও ২০ হাজার ছাগল রয়েছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ রোগের বৈশিষ্ট গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝড়ে, পায়ে খতের সৃষ্টি হয়। এতে গরুর চলাফেরা ও খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অতিদ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।  এ রোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  অন্তত ৭ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে রাঙ্গাবালী  উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে গবাদী পশুর খুড়া রোগে ভ্যাকসিন  নেই। গত মে মাস পর্যন্ত উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্তৃপক্ষের দাবী চলতি বছরে তাদের লক্ষমাত্রা ১৬ হাজার ৭০০
প্রাণীকে খুড়া রোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারনে ১৪ হাজার ৪০০ শত ১০ টি প্রানীকে ভ্যাকসিন প্রদান করেন। প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিন না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানীর ভ্যাকসিন খামারীদের উচ্চ মুল্যে কিনতে হচ্ছে। সরকারী এক ভায়েল ভ্যাকসিনের মুল্য ১৮৪ টাকা। ওই একই ভ্যাকসিন বিভিন্ন কোম্পনীর ফার্মেসি থেকে ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকায় খামারীদের কিনতে হচ্ছে। দ্রুত গরুর খুড়া রোগ প্রতিরোধ ভ্যাকসিনের দাবী জানিয়েছেন খামারীরা।
মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর, চরমোন্তাজ, বড়বাইশদিয়া , ছোটবাইশদিয়া, মৌডুবী  ও চালিতাবুনিয়া  ইউনিয়নে ব্যাপক হারে গরুর খুরা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গাববুনিয়া ও ডিগ্রি  গ্রামের গ্রামের সৈয়দ মোল্লার ১৭ টি গরু, রেজাউল  খাঁর ৫টি, মাহমুদুল হাসানএর ৪টি, দুদা মুন্সির  ৫টি এবং টুঙ্গিবাড়ীয়া গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ৪টি এবং একই গ্রামে হাসান খলিফার  ৩টি গরুসহ উপজেলা সাত হাজার গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে। কৃষকরা জানান বর্ষার মৌসুমে গরুর খুড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর এ রোগ বেশী দেখা দিয়েছে।
বড়বাইশদিয়া  ইউনিয়নের ১২ নং ডিগ্রি  গ্রামের খামারী মোঃ সৈয়দ মোল্লা বলেন
খামারের ১৭টি গরু সব কটি খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গরুর চিকিৎসা করাতে আমি দিশেহারা। তিনি আরো বলেন, এই রোগে গরু আক্রান্ত হলে শরীর গরম হয়, মুখ ও পায়ে খত সৃষ্টি হয় এবং গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝড়তে থাকে। এ সময় খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অতি দ্রুত গরু দুর্বল হয়ে পড়ে।
বড়বাইশদিয়া  ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামের   রুহুল আমিন বলেন, ৬টি গরুর ৫টি খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।  প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিন নেই। বাহির থেকে ৫৫০ টাকায় ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে।
টুঙ্গিবাড়ীয়া গ্রামের খামারী হাসান খলিফা বলেন, খামারে ১৭ টি গরুর দুইটি খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাহির থেকে ৬০০ টাকায় এক ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছি।
রাঙ্গাবালী  উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.সৌরভ কুমার ঘোষ
ভেটেরিনারি সার্জন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গরু খুড়া রোগে আক্রান্ত। গত এক মাস ধরে গবাদী পশুর খুড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। নিয়ন্ত্রনে এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। তিনি আরো বলেন, গত এক মাসে খুরা রোগের এফএমডির ভ্যাকসিন হাজার ১৪ হাজার ৪০০শত ১০ টি গরুর শরীরের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাকসিন নেই। ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠিয়েছি। ভ্যাকসিন পেলে দ্রুত সুস্থ্য গরু শরীরে প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ঔষধের পাশাপাশি পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন খুরা রোগে আক্রান্ত  গরুর পা ধুয়ে জীবানু মুক্ত রাখতে হবে। তা হলে গরু দ্রুত সেরে উঠবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..