শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পিপিএম (রাষ্ট্রপতি) পদক পেলেন খুলনার সন্তান পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। লোহাগড়ায় সৎ মায়ের হাতে ৩ বছরের শিশু খুন রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার’’ রামপালে স্থানীয় সরকার দিবস উদযাপন  খুলনায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নরসিংদীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস – ২০২৪ পালিত। কক্সবাজারে পুলিশ সুপার’ ও র‍্যাব অধিনায়কসহ পুলিশ পদক পেলেন দশ কর্মকর্তা যথাযথ মর্যাদায় সরকারি সা’দত কলেজে পালিত হলো শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমিরাতে বাংলাদেশ মিশনের মাতৃভাষা দিবস পালন ভাষা শহীদদের প্রতি খুলনা জেলা ও মহানগর যুবদলের শ্রদ্ধা নিবেদন 

ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে ডুবে গেছে সোনালী স্বপ্ন। আগামীর চিন্তায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা

জামান মৃধা, নীলফামারী প্রতিনিধি):-
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২১ মে, ২০২২

নীলফামারীতে গত কয়েক দিনের শিলাবৃষ্টি আর কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড় ও শিলা বৃষ্টির কারণে অনেক জমির পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন এবার তারা ধান উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এছাড়া অনেক কৃষক চিন্তায় পড়েছে আগামী দিন পরিবার পরিজনসহ কিভাবে চলব এই চিন্তায়।

এছাড়া গত বুধবার (১৮ই মে) রাত ১০.৩০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে নীলফামারী সদর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বোরো ধান ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ৪০ মিনিটের এই কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি উপরে যায়।সহস্রাধিক গাছপালা উপড়ে/ভেঙ্গে রাস্তায় চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শতাধিক বাড়িঘর ভেঙ্গে অসহায় হয়ে পড়ে অনেক পরিবার।

জানা গেছে, নীলফামারী জেলার সদর, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, জলঢাকা, ডিমলা, ডোমার উপজেলার অনেক জায়গার বোরো চাষিদের ধান ক্ষেতে জলাবন্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ধান কাটা-মাড়াই করতে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে বিঘাপ্রতি (৩০ শতক) ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আবার বাজারে সেই ধান বিক্রি করতে গিয়ে ঠিক দাম পাচ্ছেন না কৃষক।

শনিবার (২১শে মে) সকালে ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন বোরো ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং বাতাসে ধানের গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এছাড়া ক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন সুন্দর খাতা গ্রামের বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানী জমি জলমগ্ন।

বালাপাড়া ইউনিয়ন সুন্দর খাতা গ্রামের কৃষক জমির মিয়া, কুদ্দুস বয়াতি, ইব্রাহিম আলী, খলিলুর রহমান, মমতাজ মিয়া ও মোশারফ আলীসহ কয়েক জন কৃষক এই প্রতিবেদককে বলেন, এবার ইরি (বোরো) ধান চাষ করে আমরা মহাবিপদে পড়েছি। বর্ষার পানি আর ক্ষণে ক্ষণে ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট হয়ে গেছে। সব ধান ক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। শ্রমিক পাচ্ছি না, যদিও পাচ্ছি তাদের অনেক দাম দিতে হচ্ছে। ক্ষেত ডুবে থাকায় জমির ধান কাটা-মাড়াই করতে বিঘাপ্রতি (৩০ শতকে) ৫থেকে ৬ হাজার টাকা লাগেছে। ধান লাগানো থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত যত খরচ হচ্ছে তাতে আমাদের অনেক লোকসান হবে। আগামী দিন পরিবার পরিজনসহ কিভাবে চলব এই চিন্তায় ঘুম আসেনা।

ধান কাটতে আসা কয়েকজন শ্রমিক বলেন, বর্ষার কারণে মাঠে ধান কাটতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। যেসব জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে এবং মাটিতে শুয়ে পড়েছে যেসব জমিতে ধান কাটতে মজুরি নিচ্ছি ৬ হাজার টাকা। কারণ ওই সব জায়গায় আমাদের বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে। আবার যেসব জমিতে পানি ওঠেনি সেসব জমির ধান কাটা-মাড়াই করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা নিচ্ছি।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সেকেন্দার আলী বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বোরো ধান মাটিতে পড়ে গেছে এবং পানিতে কিছু ধানীজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয়। এ উপজেলার ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ এলাকার ধান কাটা সম্পূর্ণ হয়েছে। কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে হারভেস্টার মেশিন দ্বারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ধানকেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এবার চলতি বোরো মৌসুমে ডিমলা উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..