সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘোষিত ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে নানা ধরনের বঞ্চনা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও তারা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। দ্রুত ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান। এছাড়া সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ খায়রুল ইসলাম।
মানববন্ধনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি:
১. সরকারি উদ্যোগে সকল পেশাদার সাংবাদিকের তালিকা প্রণয়ন ও আইডি নম্বর প্রদান।
২. সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন।
৩. সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন।
৪. পাঠ্যবইয়ে গণমাধ্যম বিষয়ক অধ্যায় অন্তর্ভুক্তি।
৫. সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পিআরও পদে প্রকৃত সাংবাদিক নিয়োগ।
৬. সাংবাদিক নির্যাতনের মামলার ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ বহন।
৭. তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের মাসিক ভাতা প্রদান।
৮. হরতাল-অবরোধে সংবাদপত্রের গাড়িকে আওতামুক্ত রাখা।
৯. প্রতিটি গণমাধ্যমে সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ড গঠন।
১০. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও তদন্ত ছাড়া সাংবাদিক গ্রেফতার বন্ধ।
১১. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রেস কাউন্সিলে নিষ্পত্তি।
১২. বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ।
১৩. স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে নিউজপ্রিন্ট কাগজ বরাদ্দ।
১৪. জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন।