শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন , ই-পেপার

রাঙ্গাবালী উপকূলে টাইগার চিংড়ির জোয়ার, বদলে যাচ্ছে নারীদের জীবন

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
Oplus_16908288

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সমুদ্র উপকূলজুড়ে এখন ব্যস্ততার এক ভিন্ন চিত্র। ভোরের আলো ফুটতেই গভীর সমুদ্র থেকে একের পর এক ফিশিং বোট তীরে ফিরছে। প্রতিটি বোটভর্তি ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে টাইগার চিংড়ি—যার গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকায় জেলেদের কাছে এর নাম ‘টাইগার চিংড়ি’। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তীরে ভিড়তেই শুরু হয় আরেক কর্মযজ্ঞ। বোট থেকে নামানো তাজা চিংড়ি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপকূলের অস্থায়ী প্রক্রিয়াজাতকরণ ঘাটগুলোতে। সেখানে শত শত নারী শ্রমিক অপেক্ষা করেন। তারা দক্ষ হাতে চিংড়ি বাছাই, পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তাদের নিরলস পরিশ্রম।
রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় অঞ্চলে এখন শুধু মাছ ধরা নয়, বরং গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চক্র। জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবাই এতে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই খাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাদের অবদানে যেমন উপকূলের অর্থনীতি সচল হচ্ছে, তেমনি দেশের রপ্তানি খাতেও যুক্ত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
স্থানীয় নারী শ্রমিকরা জানান, আগে সংসারের আয়-রোজগারে তাদের তেমন ভূমিকা ছিল না। এখন এই কাজে যুক্ত হয়ে তারা নিয়মিত আয় করছেন। এতে পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা, বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। কেউ সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন, আবার কেউ সংসারের দৈনন্দিন ব্যয়ে স্বামীকে সহায়তা করছেন।
চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে সেগুলো পাঠানো হয় হিমাগারে, যেখানে নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয় এই মূল্যবান জলজ সম্পদ। ফলে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। টাইগার চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে বিবেচিত।
নারী শ্রমিক রাহিমা বেগম বলেন, “আগে শুধু ঘরের কাজই করতাম। এখন চিংড়ি বাছাইয়ের কাজ করে নিজেও আয় করছি। এতে সংসারে স্বামীর পাশে দাঁড়াতে পারছি, সন্তানের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছি। কাজটা কষ্টের হলেও আয় হচ্ছে—এটাই বড় বিষয়।”
মাছ ধরার ট্রলার মালিক মো. হানিফ হাওলাদার জানান, “গভীর সমুদ্রে গিয়ে অনেক কষ্ট করে চিংড়ি ধরতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো আয় হয়, তবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি সবসময় থাকে। তীরে ফেরার পর দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। সরকার যদি আধুনিক সরঞ্জাম ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আরও ভালো করতে পারবো।”
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী বলেন, “রাঙ্গাবালী উপকূলে টাইগার চিংড়ি আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি সম্ভাবনাময় খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। নারীদের অংশগ্রহণ এই খাতকে আরও গতিশীল করেছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে টাইগার চিংড়ি খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..