সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে ঢাকার চিঠি রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খোকসার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল ২ আসামি গ্রেফতার আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে, এবার যা বললেন পরীমনি সাবেক মন্ত্রীর ফ্ল্যাটে বিলাসবহুল সম্পদের ছড়াছড়ি, যা পাওয়া গেল নরসিংদীতে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারি – বেসরকারি সেবা প্রাপ্তি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কিছু মোবাইল সাংবাদিক অপসাংবাদিকতা করছে: আতিকুর রহমান তাবিজের কথা বলে নারীকে বাড়িতে ডেকে ধ’র্ষ’ণচেষ্টার অভিযোগে -জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার মৃত্যুর আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন পুলিশ কনস্টেবল

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন পুলিশ কনস্টেবল

বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনে বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক তরুণ পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর পুলিশ ও পরিবার বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত। তার মৃত্যুর পূর্বে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাইদুল লিখে গেছেন হতাশার কথা।
নিচে তার লেখা পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুই দিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে। আমি সবকিছু চুপচাপ দেখে গেলাম। সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কুলের দেখা না পেয়ে শেষমেশ নিয়তিকে মেনে নেয়, সদরে গ্রহণ করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।
কত তুচ্ছ বাহানা দিয়ে মানুষ একটা গভীরতম সম্পর্কের ইতি টানে, আমি অবাক হই, মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে..?
জানো? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেরে দেখলে
নিজের অনেক মায়া লাগে, হাহাকার লাগে কী হয়ে গেলাম, কি বানাইয়া গেলা, আচ্ছা বলতো আমার দোষটা কি ছিল.? কি করছিলাম আমি.? তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি সবকিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ?
তুমি না বলছিলা মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না? এখন কই তুমি? আমিতো তোমার অভাবেই শেষ হয়ে গেলাম, অনেকবারই তো আঘাত করছো সব ভুলে বারবার মাপ করে তোমাকে বুকে টেনে নিলাম এই মূল্য দিলা? একেবারেই শেষ করে দিতে আসলা? আমি তো নিয়তি মেনে নিয়ে দূরেই ছিলাম তোমার থেকে কেন আবার আসছিলা কেন এত কাছে আসছিলা? কোন উত্তর খুঁজে পাই না আমি।
শুধু দ্বিতীয় বার না
তৃতীয় বার না
চতুর্থ বার না, আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো, মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।
হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী। যদি তোমাকে হারানোর ইচ্ছে থাকত, যদি এই ভালোবাসা ক্ষণিকের মোহ হতো তবে কখনোই এত পবিত্র এক বন্ধনের নামে তোমাকে নিজের বলে ঘোষণা করতাম না। কখনোই তোমাকে নিজের নামে লিখিত করতাম না। আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা।
আচ্ছা, যদি যাওয়ারই ছিল, আসছিলা কেন?
বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙা এই ব্যথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া,।
তাই আমি সেই পথেই গেলাম।
সারা জীবন মানুষের বুঝাইলাম অথচ
দিন শেষ এসে দেখি আমি নিজেই
অবুঝ..!
যাও ভালো। যতটুকু দূরত্ব নিয়ে তুমি চলে গেলে, তার থেকে দ্বিগুণ দূরত্ব নিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম, সুখে থাকো এটাই কামনা। তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ। নাও তারও প্রমাণ দিলাম, সারাজীবন তো প্রমাণই দিয়ে আসলাম, তারপরও?
যাই হোক, তুমি তো জানোই, চাইলে আমি অনেক কিছুই করতে পারতাম। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ তো তুমি হয়ে গেলা, কী আর করব, যাও প্রমাণ সব তোমার অনুকূলে, কারণ আমার পক্ষের উকিল হচ্ছে এমন নীরবতা, আমার নীরবে হারিয়ে যাওয়া, যেখানে তুমি জবানবন্দি দিলে আর তুমি দিলে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায়।
দুঃখিত আম্মু-আব্বু, আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না, আম্মু আর পারতেছে না, আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নেই। মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নাই। একদম ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেলাম।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..