শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

পেশায় জেলে হয়েও নিবন্ধন তালিকায় নাম নেই

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতাঃ
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩

পেশায় জেলে। কিন্তু নাম নেই জেলে নিবন্ধন তালিকায়। তাই জেলে হয়েও মেলেনা সরকারী কোন সহায়তা। উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এক থেকে দেড় লাখ জেলে থাকলেও নিবন্ধন তালিকায় নাম রয়েছে মাত্র ৭৫ হাজারের।

মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের জন্য পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর রুস্তুম থেকে ভোলার ভেদুরীয়া পর্যন্ত তেতুলীয়া নদীর একশো কিলোমিটার অভায়শ্রমে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে।

সরজমিনে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ গিয়ে দেখাযায়, জেলে দম্পতি মিলন সরদার ও লিপি বেগম । স্বামী-স্ত্রী দুজনই জেলে পেশায় জড়িত। পটুয়াখালীর তেতুলীয়া নদীতে মাছ শিকার করে চলে তাদের জীবিকা।
তেতুলীয়া নদীর অভায়শ্রমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পরেছেন তারা। অলস এ সময়ে কখনো সুয়ে-বসে আবার কখনো পুরনো জাল সেলাই করে দিন পার করছেন। কিন্তু এ জেলে দম্পতির নাম নেই জেলে নিবন্ধন তালিকায়। তাই পাননা সরকারী খাদ্য সহায়তাও। দুই শিশু সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।
তাদের মতো এমন অবস্থা পটুয়াখালীর উপকূলের হাজার হাজার জেলের। যুগ যুগ ধরে এ পেশায় জড়িত থেকেও নাম ওঠেনি নিবন্ধন তালিকায়। তাই জেলে হওয়া সত্বেও তাদের ভাগ্যে জুটেনা সরকারী কোন সহায়তাও।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, পটুয়াখালীর উপকূলে এক থেকে দেড় লাখ জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করলেও নিবন্ধন তালিকায় নাম রয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার জেলের।

শের ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের বিভাগীয় প্রধান মীর মোহাম্মদ আলী জানান, খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে পেটের দায়ে নিষিদ্ধ সময়ও মাছ শিকারে নামছেন অনেকে। এতে সরকারের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তাবায়ন হচ্ছেনা। এ সমস্যার সমাধানে সকল জেলেকে নিবন্ধনের আওতায় আনার তাগিদ এই মৎস বিশেষজ্ঞর।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক বাবুল জানান, জেলে নিবন্ধনের যোগ্য হতে বছরে কমপক্ষে চার মাস নদী অথবা সাগরে মাছ শিকার করতে হবে এবং কমপেক্ষে ১৮ বছর বয়স অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। নিবন্ধন যোগ্য সকল জেলেকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..