নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রিনা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী পিয়াল মিয়ার বিরুদ্ধে। নিহত রিনার বাড়ি মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরী দুর্গাশ্রম গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামের মৃত বিল্লাল বেপারীর ছেলে পিয়াল মিয়ার সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের ১৫ দিনের মাথা থেকেই রিনাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন পিয়াল এবং তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে বাধা দিলে দাম্পত্য বিরোধ আরও তীব্র হয়।
বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস ফোন করে রিনার বাবা জাকির মিয়াকে জানান, রিনা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এবং তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিনার স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছালে অভিযোগ করা হয়, স্বামী পিয়াল ও তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের সামনে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। নিহতের পরিবারের দাবি, রিনা আত্মহত্যা করেননি; বরং তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বামীর বাড়ি কুনাপাড়ায় গেলে দেখা যায়, বাড়ির সব ক’টি ঘরে তালা ঝুলছে এবং গৃহপালিত গরু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের বাবা জাকির মিয়া বলেন, “আমার মেয়ে বিষপান করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে পিয়ালের আপন চাচী ও সাবেক ইউপি সদস্য লাকি আক্তার বলেন, ইফতারের পর তিনি নামাজে ছিলেন। পরে শুনেছেন রিনা বিষপান করেছে এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে আগের কোনো পারিবারিক কলহের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদি মাকসুদ জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মদন উপজেলার বাশরী দুর্গাশ্রম গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।