ভাসানী জনশক্তি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুলকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়ামের সভায় আগের সভার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে দলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফের নেতৃত্বে আগামী দিনে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাঁদের মতে, সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রাখার মাধ্যমে দলকে জনসম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ ও দর্শনের আলোকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত ইসলামী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, গণতান্ত্রিক চর্চা বিস্তৃত করা এবং ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ভাসানী জনশক্তি পার্টি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দলটি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে।
ভাসানীর আদর্শ ও ইসলামী সমাজতন্ত্রের দর্শনকে ধারণ করে একটি গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলাই এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাংগঠনিক ঐক্য, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্বের সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে দলটির আগামী দিনের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা।