শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন , ই-পেপার
শিরোনামঃ
লোহাগড়ায় নাশকতার মামলার আসামি আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি খোকন চৌধুরী গ্রেফতার শরীয়তপুর তিন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার যুবক নি’হত। ঈদের দিনেও সংঘর্ষ নড়াইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা খুন, আহত ১২ জন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন প্রধান উপদেষ্টা লোহাগড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় শ্রমিক নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন খুন, ঘাতক আটক লোহাগড়ায় দিনমজুরের সম্পত্তি দখল করে ব্যবসায়িক ভবন নির্মাণ করছেন দূর্বৃত্তরা, বাধা দেওয়ায় হত্যার হুমকি, মামলা দায়ের ইশরাক মেয়র হয়েছে, আমাকে এমপি পদ দেওয়া হোক: হিরো আলম ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ঘোষণা নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিংড়ার ছোট চৌগ্রাম খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

পঞ্চগড়ে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়ে(এসআই)বিয়ে করলেন বিধবা নারীকে,

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২

পঞ্চগড়ে এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় কারাগারে যাওয়া পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল (৪৫) জামিন পেয়ে সেই নারীকে বিয়ে করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী মেহেদী হাসান মিলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২৩ মার্চ) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেনমোহরে ওই নারীকে বিয়ে করেন আব্দুল জলিল। তবে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে আব্দুল জলিল জামিন আবেদন করলে মামলার বাদীকে বিয়ে করার শর্তে ট্রাইবুন্যালের বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার জামিন মঞ্জুর করেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ফুলিয়া এলাকার শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল জলিল। তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানায় কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় কর্মরত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তার মৃত স্বামীর ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পঞ্চগড় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। আব্দুল জলিল সেটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ ছিল তার। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেন। এক পর্যায়ে একই বছরের গত ৬ অক্টোবর রাতে ঘরে ঢুকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সেখানে ধরাও পরেন তিনি। এ সময় আব্দুল জলিল ভুক্তভোগীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে তার পরিচিত দুজনকে ডেকে এনে মিথ্যা বিয়ের নাটকও সাজান।

এদিকে গত ২৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলা আমলে নিয়ে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করে আদালত। পরে উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন পান জলিল। উচ্চ আদালতের অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত রোববার (২০ মার্চ) পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে স্থায়ী জামিন চাইলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

ভুক্তভোগী বলেন, পঞ্চগড়ে কর্মরত থাকাকালীন আব্দুল জলিল আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিলেও বিয়ের কাগজ দেখাতে কালক্ষেপণ করছিল। নানা অজুহাত দেখিয়ে একসময় বদলি নেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান।৭ অক্টোবর পঞ্চগড় আদালতে সাক্ষী দিতে আসবেন এবং সেদিনই আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাবেন। ৭ তারিখে আসেনও এবং আমার বাড়িতেই রাতযাপন করেন। কিন্তু পরদিন আদালতে সাক্ষী দিয়ে আর আমার সঙ্গে দেখা করেননি। ফোনে যোগাযোগ করলে মিথ্যা বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে বিভিন্ন রকম হুমকি দেন।

তিনি আরও বলেন, ন্যায় বিচার পেতে আমি আদালতে এসেছিলাম। আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। এজন্য আদালতের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেহেদী হাসান মিলন বলেন, জলিলের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ভুক্তভোগী নারী আদালতে এসেছেন। আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সন্তুষ্ট।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..