চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে গণভোটের রায় অমান্য ও বাস্তবায়নে গড়িমসির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জোটের অন্যতম নেতা রফিকুল ইসলাম।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল জব্বার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই রায় অমান্য করে বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার গঠনের পর তা থেকে সরে আসা হয়েছে, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মাথায় আবার রাজপথে নামতে হবে—এটি কেউ ভাবেনি। সংবিধান সংশোধনের নামে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত আন্দোলনের নেতা ও হাটহাজারী থেকে এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনিরী বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংস্কার না করে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে। দেশবাসী তা কখনো মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে আবারও আন্দোলনে নামবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাটহাজারী উপজেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল মালেক চৌধুরী, নায়েবে আমীর অধ্যাপক শোয়াইব চৌধুরী, রাউজান থানা আমীর শাহজান মনজুর, ইসলামী ছাত্র শিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি সাঈদ বিন হাবীব এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলার অফিস ও প্রচার সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি না করে জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে এর রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। তারা সংবিধান সংস্কারসহ জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিলটি হাটহাজারী ডাকবাংলোর সামনে থেকে শুরু হয়ে বাসস্ট্যান্ড হয়ে পৌরসভার সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।