কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় পৃথক দুইটি নৃশংস ঘটনায় গণধর্ষণ ও প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানসহ তিনজনকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে উপজেলা সদর। রোববার সকাল ১১টায় হোমনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘ধর্ষকের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ ‘ধর্ষকের ঠিকানা হোমনার মাটিতে হবে না’ এবং ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দিনের আলোতে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ এবং প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে স্থানীয় সমাজকর্মী সৈকত ভান্ডারী বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ৭ জনের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তারে তিনি সহযোগিতা করেছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়-গণধর্ষণ ও ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার।
সমাবেশে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এদিকে, হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। এসময় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় পুরো হোমনা এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..