শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে যা বললেন ড. বেনজীর আহমেদ প্রাণিসম্পদে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ”  প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লোহাগড়ার লাহুড়িয়া পুলিশের অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও ১টি প্রাইভেটকারসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার। ঈদগাঁও ইউনিয়ন নির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কে এগিয়ে!  সুন্দরবনের ফাঁদ সহ হরিণ শিকারী আটক করেছে বন বিভাগ মধুখালীতে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীতে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  গলাচিপায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত বাঁশখালীতে জমির বিরুধ নিয়ে সংঘর্ষ উভয় পাক্ষের আহত ১০

গ্রামীণ অঞ্চলে টক মিষ্টি স্বাদের ডেউয়া। আজ বিলুপ্তির পথে

জামান মৃধা, নীলফামারী প্রতিনিধি):-
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত এক ফল ডেউয়া। এটি বন কাঁঠাল বা গ্রাম্য ভাষায় ডেউয়া ফল হিসেবে পরিচিত। দেখতে অদ্ভুত টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি সবার পছন্দ। ডেউয়া ফলের গাছ অনেকেই দেখছেন যারা গ্রাম অঞ্চলে বসবাস করেন।

বর্তমানে এই ফলটি বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এখনো গ্রামঞ্চলের কোন কোন বাড়িতে এখনো ডেউয়া গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এটি কাঁঠাল গাছের মতই বড় হয়। ফল ধরার আগে দেখে বোঝার উপায় থাকে না। এটা কাঁঠাল না ডেউয়া।

ডেউয়া গাছের আকার বড় কিন্তু ফল বেশ ছোট। খোসাটা বেশ পাতলা। এর শাঁসগুলো বেশ ছোট ও হলদে।

গ্রামে বন ধ্বংসের কারণে ডেউয়া বা বন কাঁঠাল দুর্লভ হয়ে পড়ছে বর্তমানে। গ্রামঞ্চলে পাওয়া গেলেও শহুরে খুব একটা চোখে পড়ে না। গ্রীষ্মকালীন ফলের পাশাপাশি বাজারে দেখা মিলে বিলুপ্ত প্রায় এই ফল।

ডেউয়া গাছ বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, বড় আকারের বৃক্ষ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। এর ছাল ধূসর-বাদামী রঙের। গাছের ভেতর সাদাটে কষ বা আঠা থাকে। পাতা ৬-১২ ইঞ্চি লম্বা এবং ৪-৭ ইঞ্চি চওড়া হয়, যা অনেকটা কাক ডুমুরের পাতার মত। তবে আকারে সামান্য বড়।

স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল আকারে বড় ও মসৃণ। এর ফুলে পাপড়ি নেই, ছোট গুটিরমত। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের ন্যায় যৌগিক বা গুচ্ছ ফল। বাইরের আবরণ অ-সমান। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ। ভিতরের শাঁস লালচে হলুদ। প্রতিটি শাঁসের মধ্যে একটি করে বীজ থাকে। সাধারণত মার্চ মাসে ফল আসে এবং মে মাসের শেষের দিকে ফল পাকতে শুরু করে। গাছ রোপনের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল।

দেখতে অদ্ভুত এবং খেতে টক-মিষ্টি। ডেউয়া ফল মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশকিছু ভেষজ গুণ। অনিয়ন্ত্রিত ওজন (মোটা দেহ) বর্তমান সময়ে একটা বড় সমস্যা। অথচ ঠাণ্ডা পানিতে ডেউয়া ফলের রস মিশিয়ে নিয়মিত পান করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় বলে জানান স্থানীয় একাধিক প্রবীণ গ্রাম্য কবিরাজ। এমনকি ডেউয়া ফল রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।
মুখের রুচি ফেরাতে বা জ্বর হলে খাওয়া হয় এই ফল। ডেউয়া ফলের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেলে মুখে রুচি ফিরে আসে।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, মধুর অম্ল যুক্ত পাঁকা ডেউয়া মুখের অরুচি ও পেটের বায়ুনাশে অমৃত। শুধু তাই নয়, পিত্ত ও যকৃতের জন্য উপকারী এই ডেউয়া ফল।

দয়া করে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..